তৃতীয় সন্দীপ্তা চট্টোপাধ্যায় স্মারক বক্তৃতা | সমাজ সংবাদ সংলাপ | বক্তা: শ্রী সুকান্ত চৌধুরী |
sandipta_chatterjee

Medianest: Remembering Sandipta Chatterjee

 

​A joint endeavour of Sandipta's friends and
School of Media, Communication and Culture, Jadavpur University




ju
 

প্রযুক্তি কেন বাধ্যতে

 
Prasenjit Sinha (July 6, 2017)
 
FacebookTwitterGoogle+PinterestLinkedInWhatsAppShare

প্রসেনজিৎ সিংহ

 

নিউ ইয়র্কে ডিডিটাল মিডিয়া সংস্থার অফিসের প্রবেশপথে আদ্যিকালের ছাপার মেশিন

নিউ ইয়র্কে ডিডিটাল মিডিয়া সংস্থার অফিসের প্রবেশপথে আদ্যিকালের ছাপার মেশিন

নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকের কথা, অফসেটের রমরমা কলকাতায় শুরু হয়নি। কিছু কিছু প্রেসে টাইপসেটিং চলছে। কেউ কেউ পুরনো পদ্ধতিকে বিদায় জানানোর তোড়জোড় করছেন। নতুন পুরাতনের এমন এক সাঁঝবেলায় স্বল্প পরিচিত এক বয়স্কমানুষকে চাকরি চলে যাওয়ায় কাঁদতে দেখেছিলাম। তিনিও একটি খবরের কাগজের প্রেসে কাজ করতেন। যে প্রবীণ সাংবাদিকের সঙ্গে ছিলাম আমি, তাঁকেই ভদ্রলোক দুর্ভাগ্যের কথা শোনাচ্ছিলেন। ভদ্রলোকের একটা কথা আজও আমার কানে বাজে। ‘তিরিশ বছর এই কাজ করছি দাদা। আর কিছু যে পারি না। ঘরসংসার নিয়ে কোথায় যাব বলতে পারেন!’

তখনও সাংবাদিকতায় প্রবেশ করিনি। ভাবনাচিন্তার স্তরে। মানে, সাংবাদিকতা নিয়ে এম এ পড়ছি আরকী! সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে স্বপ্ন দেখার শুরুতে এই জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন সাধারণ মানুষের এই হাল দেখে তখন মনে একটা অভিঘাত সৃষ্টি হয়েছিল বইকী! নইলে এতদিন পরেও সেটা কেন ভুলতে পারলাম না।

বেশ কয়েকবছর পরে যখন পেশায় পা একটু একটু করে জমতে শুরু করেছে, তখন বিভিন্ন কাগজ থেকে আরও সংবাদ প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পদের অবলুপ্তি হতে শুরু করল। যুগান্তর কাগজে শুনেছি, সংবাদসংস্থার কপি ছিঁড়ে দেওয়ার জন্যও আলাদা লোক ছিল। সবচেয়ে কাছাকাছি যাদের সঙ্গে একসময় কাজ করেছি, সেই প্রুফরিডাররাও কাজ হারাতে শুরু করলেন। ইংরেজি কাগজে স্পেলচেকার চলে আসায় তাঁরা হয়ে গেলেন অতিরিক্ত।

বাংলা কাগজগুলোর অনেক জায়গাতে সাবএডিটরদের সেই কাজ করতে বলা হল। কারণ, বাংলা বানানের ব্যাপারটা আজও বোধহয় সফটঅয়্যারের হাতে ছাড়া যায়নি। বানানে সর্বজনগ্রাহ্য রূপটি নির্ধারিত না হওয়ায়।

আবার অপেক্ষাকৃত নতুন অডিওভিস্যুয়াল মিডিয়াতেও এমনটা দেখেছি। দূরদর্শন পরবর্তী জমানায়, যখন চ্যানেলে বাজার ছেয়ে গেল। উন্নতি ঘটল প্রযুক্তিরও। বিশাল যন্ত্রবাহী সাউন্ড রেকর্ডিস্টদের কাজ হারাতে দেখেছি, উন্নত ক্যামেরা বাজারে চলে আসায়।

আর আজ প্রায় সিকি শতাব্দী পার করে আজ যখন  ম্যানহাটনে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সংবাদপত্র ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে’(এনওয়াইটি)র সদর দফতরের সামনে কপি-এডিটরদের বিক্ষোভ দেখি, তখন মনে হয় প্রযুক্তির কোপ থেকে বোধহয় কারও মুক্তি নেই। ‘প্রযুক্তি কেন বাধ্যতে’।

এ বছর অগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রায় একশ কপি এডিটরের চাকরি যাবে। প্যারিসের ব্যুরো গুটিয়ে নেওয়া হবে ( ওদেশে ছাঁটাইয়ের নিয়মকানুন কড়া। প্রচুর ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে) প্যারিসের কর্মীদের লন্ডনে বদলি করে ‘পিংক  স্লিপ’ ধরানো হবে। (সমস্ত কর্মীকে চিনে বদলি করে ছাঁটাই করলে বোধহয় সবচেয়ে সুবিধা হতো ওখানে নাকি জবাবদিহি করতে হয় না মালিকপক্ষকে)। এ সমস্তকিছুই করা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদপত্রকে পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কথা ভেবে। ফলে সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতিতে বদল আসবে। এনওযাইটির ইতিহাসে এত বড় আকারে পুনর্গঠন আগে কখনও হয়নি।

এই ঘোষণার প্রতিবাদে গত ২৯ জুন এনওয়াইটি’র সাংবাদিকরা হাতে ফেস্টুন নিয়ে নীচে নেমে আসেন। প্রতিবাদের ভাষাও ছিল সংক্ষিপ্ত এবং জোরাল। কপি এডিটরেরা না থাকলে কী হতে পারে সংবাদপত্রে তা বোঝাতে ছোট ছোট ভুল বাক্য লেখা ফেস্টুন ছিল তাঁদের প্রতিবাদ। ‘Without us, it’s the New Yrok Time’, ‘Copy editors save our buts’, ‘This sign wsa not edited’, ‘We kneed are editors! They make us look smart.’ শতাব্দীপ্রাচীন এই সংবাদপত্রে সংবাদসংগ্রহ থেকে তা প্রকাশ পর্যন্ত, বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে সম্পাদনা বিভাগের প্রক্রিয়াটা ছিল অন্য প্রতিযোগী কাগজগুলির তুলনায় কিছুটা দীর্ঘায়িত। কর্তৃপক্ষ সেদিকেই নজর দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। তাঁরা বলেছেন, কপি ডেস্ক উঠে গেলেও কপি এডিটিং থাকছে। এই পদক্ষেপে কতটা ঝুঁকি রয়েছে, কতটা তা সফল হবে, তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা মানতেই হয়, এনওয়াইটি’র প্রায় নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনা অনেকটাই এই কপি এডিটরদের জন্যই। অতীতের গৌরবের উপর দাঁড়িয়ে আজ তাঁদের অস্বীকার করার সামিল এই পদক্ষেপ। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, বেঁচে যাওয়া অর্থ তারা সংবাদ সংগ্রহে আরও বেশি করে কাজে লাগাতে চান।

বিশ্বজুড়েই সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনবাবদ আয় কমছে। প্রকাশনার বিপুল ব্যয়ভার বিজ্ঞাপনছাড়া চালানো অসম্ভব। প্রযুক্তি সেই সুযোগ করে দিয়েছে। সংবাদপত্র ব্যবসায় প্রযুক্তিগত দিকটিতে আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। বিশ্বের সমস্ত বড়বড় সংবাদপত্রই তাদের ইন্টারনেট সংস্করণের দিকে মনোযোগী হতে হচ্ছে।

স্মার্ট ডিজিটাল জার্নালিজম। আপাতত এই শব্দবন্ধেই ঘুরপাক খাচ্ছে সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ। সাম্প্রতিক অতীতে মিডিয়াউপযোগী নানারকমের প্রযুক্তি এসে গিয়েছে। কিন্তু তার তড়িৎগতির সঙ্গে পুরোপুরি বদলাতে পারেনি গণমাধ্যম। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে বিপদ। এই বিপদ প্রবল জলোচ্ছাসের মতো।  ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সংবাদসংগ্রহ থেকে শুরু করে ছবি সংগ্রহ এবং সম্পাদনা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার নানা অস্ত্রও হাত এসে গিয়েছে। সংবাদমাধ্যম কীভাবে এসবের ব্যবহার করবে, সেই প্রক্রিয়া ক্রমশ নির্দিষ্ট হচ্ছে। তবে এই চলমান প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের শেষ নেই। কাজেই তাল মেলাতে হবে তার সঙ্গেও।

অনলাইন সাংবাদিকতা শুধু তাৎক্ষণিকতা নয়, ঢুকে পড়েছে বিশ্লেষণের চৌহদ্দিতেও।  এই কৌশল যে যত দ্রুত রপ্ত করতে পারবে, সে আগামিদিনে তত সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

 


You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

 
  • Recent Posts

     
  • Follow us

    FacebookTwitterGoogle+RSS Feed
     
  • Share

     
  • Facebook

     
  • Archives

     
  • February 2018
    MTWTFSS
    « Jan  
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728 
     
  • Recent Comments

     
  • Tags

     
  •  

    top