তৃতীয় সন্দীপ্তা চট্টোপাধ্যায় স্মারক বক্তৃতা | সমাজ সংবাদ সংলাপ | বক্তা: শ্রী সুকান্ত চৌধুরী |
sandipta_chatterjee

Medianest: Remembering Sandipta Chatterjee

 

​A joint endeavour of Sandipta's friends and
School of Media, Communication and Culture, Jadavpur University




ju
 

গোদোর জন্য এখনও শেষ হয়নি প্রতীক্ষা

 
Prasenjit Sinha (March 7, 2017)
 
FacebookTwitterGoogle+PinterestLinkedInWhatsAppShare

বিনোদনের রাজসূয় যজ্ঞের এই জমানায় থিয়েটারের দল চালানো কতটা কঠিন, কলকাতা বা মফস্বলের ভুক্তভোগী দল মাত্রেই তা জানে! সোশ্যাল মিডিয়ার জমানায় মোবাইল ছেড়ে মানুষ আর মুখ তুলতে পারছে কোথায়! সিনেমা, গানবাজনা, খেলাধূলা এমনকী, সংবাদ—সব বিনোদনই এখন ওই চারকোণা স্ক্রিনে বন্দি। এসব ছেড়ে থিয়েটার দেখতে যাচ্ছেন ক’জন! তবু প্রাচীন এই শিল্পমাধ্যমটির প্রতি কিছু মানুষের টান রয়েই গিয়েছে। সেটা অ্যাকাডেমি চত্বরে গেলে হয়তো টের পাওয়া যায়। এরাই বাঁচিয়ে রেখেছেন শিল্পটাকে। এখনও কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা সপ্তাহান্তে না হোক, মাসে একটা থিয়েটার দেখার চেষ্টা করেন। তবে খেয়াল করে দেখেছি, তাঁদের অধিকাংশই উত্তর-চল্লিশ। এছাড়া, যাঁরা ভিড় জমান, তাঁদের একটা অংশই কিন্তু পুরো সময়ের বা আংশিক সময়ের নাট্যকর্মী। তাঁরা নাটক ভালবাসেন। নাটকপ্রেমী মানুষ কিন্তু সবদেশেই অল্পবিস্তর রয়েছেন। 

আমেরিকার অপেক্ষাকৃত পুরনো শহর এই ফিলাডেলফিয়া। আমেরিকার একসময়ের প্রাণকেন্দ্র। অনেক ইতিহাসের পীঠভূমি। অনেকটা কলকাতার মতো। কলকাতায় নাট্যচর্চার সূচনালগ্নে যেমন গেরাসিম লেবেদফ প্রথম নাট্যচর্চার আখড়া খুলেছিলেন। এই শহরে দু’শো বছরেরও বেশি আগে (১৮০৯) ‘দ্য ওয়ালনাট স্ট্রিট থিয়েটার কোম্পানি’র সূচনা হয়। আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো নাটকের দল। এদের কথা অন্যদিন বলব। আজ একটি নতুন দলের কথা। দলটার নাম দ্য কিউরিও থিয়েটার কোম্পানি। দলটির বয়স বারো। নতুনই বলা যায়। গরিমার ভার তেমন নেই। তবু ভাল লাগল এই দেখে যে, প্রতি বছরই প্রায় দু’টি করে নাটক এরা প্রযোজনা করে চলেছে। এ বছর স্যামুয়েল বেকেটের ‘ওয়েটিং ফর গোদো’ এবং গুস্তভ ফ্লব্যেয়রের বিখ্যাত উপন্যাস মাদাম বোভারি’কে কেন্দ্র করে রচিত কমেডি ‘দ্য ম্যাসিভ ট্র্যাজেডি অফ মাদাম বোভারি’। শেষোক্তটি ব্রিটেনের বিখ্যাত থিয়েটারের দল ‘পিপলিকাস’ ইতিমধ্যেই মঞ্চস্থ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আমেরিকায় এরাই প্রথম প্রযোজনা করছে। ইন্টারনেটেই দলগুলির যে কোনও নাটকের টিকিট কাটা যায়। আবার হল’এ গিয়েও কাটা যায়। প্রতিটি দলের মতো এদেরও নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে।

 নাটকের বিজ্ঞাপন

নাটকের বিজ্ঞাপন

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ চলছে ‘ওয়েটিং ফর গোদো’। প্রতি বৃহস্পতি-শুক্র-শনি তিনদিন নাটকটি এরা মঞ্চস্থ করছে স্থানীয় একটি চার্চে। মনে পড়ল, দেশের কথা। গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে যাত্রাপালার রেওয়াজ তো আজকের নয়। তবে এখানে কোনওকিছুই দাক্ষিণ্যে চলে না। এদেরই মতো একটি জুডো শিক্ষার স্কুলকেও চার্চ ভাড়া দিয়ে রেখেছে। কিউরিও’ যতটা অংশ ভাড়া নিয়েছে, তার পুরোটাকেই এই থিয়েটারের আঙ্গিকে সাজিয়েছে। দরজা খুলে ঢুকতেই আলাপ হল এরির সঙ্গে। দলের সদস্য এরি বক্স অফিস সামলান। না, কোনও কাউন্টার নেই। আমার ইন্টারনেটের প্রিন্ট আউট দেখে মিলিয়ে নিলেন নাম ঠিকানা। কথায় কথায় জানলাম, ও পিএইচডি স্টুডেন্ট। এরির উল্টোদিকে বসে রয়েছেন আরেক সদস্য। তিনি অবশ্য জল আর স্ন্যাক্স্ নিয়ে বসেছেন। মূল্য এক ডলার । অ্যাকাডেমির বাইরে এসে চা খাওয়ার কথা মনে পড়ছিল। টিকিটের মূল্য ২৫ ডলার। এর মধ্যে একদিন ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল নাইট’ হয়েছে। সেদিন টিকিটের দাম ছিল ১৫ ডলার। কিন্তু সেদিন ছিল হাউসফুল। কলকাতায় দুএকটা দল ‘ওয়েটিং ফর গোদো’ মঞ্চস্থ করেছে। দেখা হয়নি। এখানেই নাটকটি জীবনে প্রথমবার দেখছি। গল্পটা অনেকেরই জানা। ভ্লাদিমির এবং ইস্ট্রাগন নামে দু’জন গোদো নামে এক ব্যক্তির প্রতীক্ষা করছে একটি গ্রামের রাস্তায়। তাদের সেই প্রতীক্ষার মধ্যেই পৎজো তার চাকরের সঙ্গে আসে। তাদের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে এবং ভ্লাদিমির-ইস্ট্রাগনের কথাবার্তাতেও জীবনের শূন্যতা ফুটে ওঠে। এই নাটকের সংলাপ কুশীলবদের ভাব আদানপ্রদানের সংকীর্ণ গণ্ডি অতিক্রম করে অদ্ভুত চিরকালীন সত্যের ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছে বলে মনে হয়। হয়তো সে কারণেই এই নাটক কালোত্তীর্ণ। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অভিনীত হয়ে চলেছে।

 মঞ্চের আবহ

মঞ্চের আবহ

চার্চের কোনও স্থায়ী মঞ্চে কিন্তু নাটক অভিনীত হচ্ছে না। পুরোটাই এরা তৈরি করেছেন। এমনকী, দর্শক আসন পর্যন্ত। মাত্র ১০০ আসনের অস্থায়ী এই মঞ্চের মাথায় সাদা ছেঁড়া ছেঁড়া কাপড়ের সাহায্যে গাছের আভাস তৈরি করা হয়েছে। সেই আভাস চুঁইয়ে পড়েছে বক্স অফিস পর্যন্ত। মঞ্চটাও উঁচুনীচু। যদি মঞ্চকে গোল বলে ধরে নেওয়া হয়, তবে তার চারদিকে চারটি বেরনোর রাস্তা। বৃত্তের মাঝখানে একটি যুক্তচিহ্ন বসালে যেমনটা হয়। দর্শকাসন ওই বৃত্তের চারভাগে তিনটি ধাপে বিন্যস্ত। একেকটিতে ২৪ জনের বসার ব্যবস্থা। একদিনেক নির্গমন পথের মাথার উপরে একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সমস্ত স্টেজের আলো এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণ করছেন। দু’ঘণ্টা দশ মিনিটের এই নাটক রুদ্ধশ্বাস ঘটনার উপর ভর করে এগিয়ে যায় না। বরং সাধারণ সংলাপেই মানুষের জীবনে ওঠাপড়ার চিরায়ত দর্শনকে চিনিয়ে দিতে থাকে। তবু দর্শককে একঘেঁয়েমির শিকার হতে দেয় না। সেটার কারণ, কুশীলবদের অভিনয় দক্ষতা। বাচিক, শারীরিক সবটুকুই। পেশাদারিত্বের ছাপ রয়েছে প্রায় সকলের অভিনয়েই। পশ্চিমবঙ্গে গ্রুপ থিয়েটারের প্রথমসারির দলগুলি ছাড়া প্রায় সকলেরই অর্থাভাব অন্যতম প্রধান সমস্যা। তাছাড়া ভাল মঞ্চ, ভাল নির্দেশক, ভাল অভিনেতার অভাব যেমন আছে তেমনই আছে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। ইগো প্রবলেম। কোনও এক অভিনেত্রীকে নিয়ে অভিনেতা এবং নির্দেশকের টানাপড়েন। এমন কতকিছুই শোনা যায়। যার অন্যতম ফল, দলে ভাঙন। এখানে সেই ধরনের সমস্যা রয়েছে কি না, কৌতূহল ছিল। উত্তরটা অবশ্য জানা হয়নি।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

 


You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

 
  • Recent Posts

     
  • Follow us

    FacebookTwitterGoogle+RSS Feed
     
  • Share

     
  • Facebook

     
  • Archives

     
  • December 2017
    MTWTFSS
    « Nov  
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031
     
  • Recent Comments

     
  • Tags

     
  •  

    top